চাঁদপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: আত্মহত্যা নাকি হত্যা?

মৃত গৃহবধূ আছমা আক্তার ঊর্মি এবং স্বামী সৌদি প্রবাসী মনির উদ্দিন বেপারী

চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা গ্রামে স্বামীর বাড়িতে আছমা আক্তার ঊর্মি (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট, ২০২৫) দুপুরে তার শ্বশুরবাড়ির একটি কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আত্মহত্যার কারন এখনো অজানা। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের শ্বশুরকে আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ঊর্মি একই গ্রামের হারুন বেপারীর মেয়ে এবং সৌদি প্রবাসী মনির উদ্দিন বেপারীর স্ত্রী। প্রায় পাঁচ বছর আগে পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কে মনি উদ্দিনের সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, যার নাম মাহিদ। সম্প্রতি ঊর্মির স্বামী মনির উদ্দিন কাজের জন্য সৌদি আরব গেছেন।

মৃতের পরিচয়


নামঃ আছমা আক্তার ঊর্মি
বয়সঃ ২২
ঠিকানাঃ বেপারী বাড়ি, মদনা গ্রাম, চান্দ্রা ইউনিয়ন, চাঁদপুর সদর উপজেলা
পিতাঃ হারুন বেপারী
স্বামীঃ মনির উদ্দিন বেপারী ( প্রবাসী/সৌদিআরব)
শ্বশুরঃ নূর হোসেন বেপারী
বিবাহঃ ২০২০ সাল (আনুমানিক)
সন্তানঃ একজন (পুত্র)
সন্তানের নামঃ মাহিদ
স্বাস্থ্যঃ সম্প্রতি ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন
মৃত্যুঃ সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা
মৃত্যুর তারিখঃ ৭ আগষ্ট ২০২৫, বৃহস্পতিবার দুপুর
মৃতদেহ নামিয়েছেনঃ সামাদ (ভাই) এবং রনি ব্যাপারী (ভাসুর)

এলাকাবাসী এবং পরিবারের সদস্যরা জানান, ঊর্মি তার শ্বশুরবাড়িতে সকলের কাছে অত্যন্ত আদরের ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে তার সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল। তাদের মধ্যে কোনো ধরনের ঝগড়া বা বিবাদের ঘটনা কখনো শোনা যায়নি। তবে কিছুদিন আগে ঊর্মি ব্রেইন স্ট্রোক করেছিলেন বলে জানা গেছে।

জানা যায় যে, ঊর্মি প্রতিদিন তার নিজ ঘরেই ঘুমান। কিন্তু আজ তার ব্যতিক্রম। আজ দুপুরে সে তার ভাসুরের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন।ঘটনার দিন দুপুরে ঊর্মির ননদ তাকে ভাত খাওয়ার জন্য ডাকতে যান। কিন্তু ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় তিনি ভেতরে ঢুকতে পারেননি। পরে ঊর্মির বড় ভাসুর রনি বেপারী জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন যে ঊর্মি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। এরপর ঊর্মির ভাই সামাদ এবং রনি দ্রুত বাঁচানোর আশায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওড়না কেটে তাকে নিচে নামান। নামানোর পরে স্থানীয় এক ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় নিয়ে যান। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঊর্মির শ্বশুর নূর হোসেন বেপারীকে আটক করা হয়েছে।

এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *